হালিশহর আলহাজ্ব মহব্বত আলী সিটি কর্পোরশন উচ্চ বিদ্যালয়কে উন্নয়নের বলি যেনো বারবার হতেই হবে।

আজ থেকে প্রায় ৫২ বছর আগে বৃহত্তর হালিশহরে শিক্ষিত সমাজ নির্মানের লক্ষ্যকে সামনে রেখে একদফার প্রবক্তা চট্টলশার্দুল জননেতা মরহুম এম এ আজিজ এর অনুজ,স্বাধিনতা সংগ্রামের সংগঠক,স্বাধিনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে বাঙ্গালী নিধনে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আনীত অস্ত্রবোঝাই সোয়াত জাহাজ প্রতিরোধের সাহসীযোদ্ধা,বিশিষ্ট সমাজ সেবক,শিক্ষানুরাগী জননেতা মরহুম এম এ মজিদ(member of the national assembly) ১৯৬৮ ইংরেজিতে আলহাজ্ব মহব্বত আলী একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠা হালিশহর আলহাজ্ব মহব্বত আলী একাডেমী পরে শিক্ষানুরাগী সাবেক চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আলহাজ্ব মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকাকালীন আলহাজ্ব মহব্বত আলী একাডেমীকে সিটি কর্পোরশন এর অনন্তর্ভূক্ত করে হালিশহর আলহাজ্ব মহব্বত আলী সিটি কর্পোরশন উচ্চ বিদ্যালয় করেন। অতঃপর জাইকার অর্থায়ন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্তাবধানে স্কুলটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আর একটি নুতন ছয়তলা ভবন নির্মিত হয়।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তালিকা ভূক্ত স্কুলগুলির মধ্যে এই স্কুলটি JSC.SSC সহ অন্যান্য ক্লাসে ভাল ফলাফল করে আসছে।

একসময় বিদ্যালয়ে ভবনের সাথে প্রশস্ত খেলার মাঠ ছিল,২০০৫ সালে বন্দর এক্সেস রোড করতে গিয়ে স্কুলটির উপর অধিগ্রহণের খড়্গ নেমে আসে,বিদ্যালয় হারায় ভবনের এক বড় অংশ সহ

মাঠ,বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা।বাস্তবিকতায় এরপর আর যথার্থ কোন মাঠ ছিল না আলহাজ্ব মহব্বত আলী সিটি কর্পোরশন উচ্চ বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম ছোট পরিসরে একটি ক্ষুদ্র মাঠ দিয়েই চলছিল।

উন্নয়নের বলি যেনো এ স্কুলটিকে বারবার হতেই হবে।

আবারও ভাঙনের শব্দ শোনা যাচ্ছে,আবারও একোয়ারের ফণা যেনো ধেঁয়ে আসছে স্কুলটির দিকে

গত দুই বছর ধরেশোনা যাচ্ছিল হকুম দখলের।

এবার দেখছি তা বাস্তবায়নের সব আয়োজন শেষ করে আবার আলহাজ্ব মহব্বত আলী সিটি কর্পোরশন উচ্চ বিদ্যালয়ের উপর অধিগ্রহনের আঘাতের প্রস্তুতি চলছে।

আবার বিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ হতে চলেছে এমন সংবাদ চতুর্দিকে চাউর হচ্ছে।

সরকার উন্নয়ন করবে তাতে কারো দ্বিমত নেই,কিন্তু তা জাতিকে শিক্ষিত করে তোলার প্রতিষ্টান ধ্বংস করে নয়।

এই স্কুলের পূর্বের অধিগ্রহণের পর মূলত পুনরায় ছেড়ে দেওয়ার মত আর কোন জায়গা অবশিষ্ট নাই।সম্ভাব্য অধিগ্রহণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে গত অধিগ্রহনের পরে জাইকার অর্থায়নে নির্মিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ছয়তলা বিশিষ্ট স্কুল ভবন( যা এখন ও ব্যবহারই শুরু হয় নি) সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।দক্ষিণের চারতলা ভবন ও প্রায় চলে যাবে এবং বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব প্রকারান্তরে বিলীন হয়ে যাবে।

অধিগ্রহণের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শুধু স্কুল নয় হালিশহরের অনেক মানুষ মাথাগুজার শেষ আশ্রস্হল যেমন হারাবে অন্যদিকে সড়কের মধ্যে বিলীন হয়ে যাবে অনেক ফসলী জমি।

তাই সরকারে প্রতি হালিশহরবাসীর আবেদন স্কুল,ফসলীজমি,বাড়িঘর ক্ষতি হবে এমন স্হানে দিয়ে রাস্তা বর্ধিত নাকরে চট্টগ্রাম আউটার রিং রোড়ের সাথে বন্দর এক্সেস রোড় সংযোগ করে দিলে

হালিশহর আলহাজ্ব মহব্বত আলী সিটি কর্পোরশন উচ্চ বিদ্যালয়সহ হালিশহরবাসী অনেক ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবেন।

%d bloggers like this: